ChatGPT সম্পর্কে কে না জানে? প্রায় সব প্রফেশনের মানুষ সুবিধা নিচ্ছে যুগান্তকারী এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুলের মাধ্যমে। ChatGPT প্রকাশ হবার পর সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি হল, বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে AI যুদ্ধ। বড় বড় টেক কোম্পানি গুলো নিজেদের AI নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে ইউজারদের মধ্যে। ফলাফল সরূপ সেই সমস্ত AI আমাদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করে তুলছে।
আজকের এই টিউনে আমি এমন ৭ টি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো আপনার লাইফকে সহজ করে তুলতে পারে।
১. Google Bard
ChatGPT এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে Google Bard। সম্পূর্ণ ফ্রিতে আপনি প্রায় একই সুবিধা এখানে পেয়ে যাবেন। Bard সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এখানে রয়েছে সব আপডেট তথ্য। যেখানে ChatGPT তথ্য গুলো ২০২১ সালের মধ্যে সীমাবদ্ধ সেখানে Bard এ পাবেন আপডেট ইনফরমেশন।
Bard দিয়ে যেকোনো আর্টিকেল সামারাইজ করতে সেটার লিংকটি দিয়ে দিলেই হবে। আবার চাইলে সেটা সরাসরি Google Docs বা Gmail এ ইম্পোর্ট করতে পারবেন। Bard দিয়ে ইমেজ তৈরি করতে পারবেন এবং যেকোনো ইমেজ আপলোড করে সেটার জন্য Instagram ক্যাপশনও জেনারেট করতে পারবেন, যা সামনে আসতে চলেছে।
Bard
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Bard
২. vidyo.ai
বিশেষ করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ডিজাইন করা একটি AI হচ্ছে Vidyo.ai। এই টুলটির মাধ্যমে আপনি মুহূর্তেই যেকোনো লং ভিডিও কে শর্ট করে ফেলতে পারবেন। এই মুহূর্তে আপনি শর্ট ভিডিওর চাহিদা সম্পর্কে অবশ্যই জেনে থাকবেন।
আপনি এখানে ইউটিউবের ভিডিও লিংকও ব্যবহার করতে পারেন অথবা লোকাল স্টোরেজ থেকেও ভিডিও আপলোড করতে পারেন। ভিডিও আপলোড করার পর এটি আপনার ভিডিও কে ছোট ছোট সেগমেন্টে ভাগ করে আলাদা আলাদা ভিডিও জেনারেট করে দেবে। কখনো কখনো ফ্রেমে একটু ঝামেলা হতে পারে সেটাও আপনি ম্যানুয়ালি ঠিক করে নিতে পারবেন।
Vidyo
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Vidyo
৩. Beatoven.ai
কপিরাইট ফ্রি মিউজিক জেনারেট করার দারুণ একটি AI টুল হচ্ছে Beatoven। create new track এ ক্লিক করে, টাইটেল, ডিউরেশন, Tempo দিন এবং Genre সিলেক্ট করুন। এটি মুহূর্তেই আপনার জন্য কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ক্রিয়েট করে দেবে একই সাথে কয়েকটা অলটারনেটিভ মিউজিকও পেয়ে যাবেন।
এই টুল থেকে মিউজিক গুলো আপনি ইউটিউবেও ব্যবহার করতে পারবেন। এই টুলের অসুবিধা হচ্ছে এখানে মিউজিকের পরিমাণ লিমিটেড, আশা করা যায় ভবিষ্যতে আরও মিউজিক এড হবে।
Beatoven
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Beatoven
৪. flair.ai
আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন তাহলে এই টুলটি আপনাকে দারুণ ভাবে সাহায্য করতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই Flare ডিজাইন করতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে যান এবং নির্দিষ্ট একটি ইমেজ আপলোড করুন, এটি আপনার ইমেজের ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করে দেবে একই সাথে ডান বাম পাশে বিভিন্ন ডিজাইন সাজেস্ট করবে। আপনি যেকোনো ডিজাইন সিলেক্ট করতে পারেন। এই টুলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে আপনি কোন ধরনের ওয়াটার মার্ক, কপিরাইট ছাড়াই পাবেন হাই কোয়ালিটি ইমেজ।
flair.ai
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ flair.ai
৫. Scribble Diffusion
মজার একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে, Scribble Diffusion। এখানে আপনি নিজের আঁকা ছবিকে গ্রাফিক্স এ রূপান্তর করতে পারবেন। ব্যবহার করা খুবই সহজ। প্রথমে ছবি আঁকুন এবং প্রয়োজনীয় Prompt দিন এটি মুহূর্তেই আপনাকে চমৎকার একটি ইমেজ তৈরি করে দেবে।
এখানে ভাল ফলাফল পেতে আপনাকে অবশ্য আপনাকে ভাল করে Prompt দেয়া জানতে হবে।
Scribble Diffusion
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Scribble Diffusion
৬. Runway
আপনি হয়তো এতদিন দেখে এসেছেন কীভাবে AI দিয়ে ইমেজ থেকে অবজেক্ট রিমুভ করে আজকে দেখবেন কীভাবে ভিডিও থেকে অবজেক্ট রিমুভ করা যায়। ভিডিও থেকে অবজেক্ট রিমুভ করতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে Runway।
এখানে ভিডিও রিলেটেড অনেক ফিচার আপনি পেয়ে যাবেন যেমন, ফেস ব্লার করা, সাইলেন্স পার্ট রিমুভ করা ইত্যাদি। তবে অবজেক্ট রিমুভ ফিচারটি সত্যিই দারুণ। যেকোনো ভিডিও আপলোড করে অবজেক্টটি ড্র করে দিন, ব্যাস কাজ শেষ। ক্যামেরা স্ট্যাটিক না হলেও এটি অবজেক্ট ডিটেক্ট করে সেটা রিমুভ করে রাখতে পারে। মোটামুটি ভাল মুভমেন্টের ভিডিওতেও এটি ভালই কাজ করে।এর একটি iOS অ্যাপ রয়েছে, এন্ড্রয়েডের জন্য কোন অ্যাপ এখনো তৈরি হয় নি। ফ্রিতে আপনি তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন, তবে ডিলিট করে করে নতুন প্রজেক্টও এড করা যাবে।
Runway
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Runway
৭. Tome
আপনি যদি সিঙ্গেল ক্লিকে প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে চান তাহলে এই Tome টুলটি বিশেষ করে আপনারই জন্য। Tome তে যান এবং Create এ ক্লিক করুন। এবার আপনি যে বিষয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে চান সেটা লিখুন।
এটা মুহূর্তেই আপনাকে প্রেজেন্টেশন তৈরি করে দিতে পারবে। এই টুলটি তথ্য কালেক্ট করার জন্য ChatGPT ব্যবহার করবে এবং রিলেটেড ইমেজের জন্য Dall-e ব্যবহার করবে।
এই টুলের একটি অসুবিধা হচ্ছে PDF এ প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে আপনাকে পে করতে হবে।







